বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণে একাধিক আইন ও নীতি থাকলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর (Department of Environment) ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বায়ুদূষণ, পানি দূষণ, শব্দদূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব সীমিত বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ইটভাটা, পুরনো যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নির্গমনকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীগুলো দখল ও দূষণের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
পরিবেশ আইন ২০১০ এবং বিভিন্ন জাতীয় নীতি থাকা সত্ত্বেও অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, বরং কঠোর মনিটরিং এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনের অংশ হিসেবে পরিবেশ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিলেও বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া দেশের পরিবেশ সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
