প্রচ্ছদপরিবেশ সংবাদরাজধানীর বায়ুদূষণ বেড়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

রাজধানীর বায়ুদূষণ বেড়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

নগরবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ধুলা নিয়ন্ত্রণের জন্য পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। ফলে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে দূষিত বাতাসের মধ্যে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুরোনো যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নির্গমন বায়ুর মানের অবনতির প্রধান কারণ।

সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র ধূলিকণার (পিএম ২.৫ ও পিএম ১০) পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে দূষিত বায়ু ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণসামগ্রী খোলা অবস্থায় পরিবহন, রাস্তার পাশে মাটি ও বালুর স্তূপ এবং খোঁড়াখুঁড়ির কাজের কারণে ধুলাবালির পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ধুলা নিয়ন্ত্রণের জন্য পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। ফলে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে দূষিত বাতাসের মধ্যে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

পরিবেশবিদরা বায়ুদূষণ কমাতে কঠোর নজরদারি, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন সম্প্রসারণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং নির্মাণকাজে পরিবেশবিধি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

পরিবেশের কাগজ মনে করে, একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে টেকসই সমাধানের পথ।

RELATED ARTICLES
Continue to the category

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments